মেনু নির্বাচন করুন

জয়েন্ট পাকিস্তান আমলের সবচেয়ে বড় প্রকল্প ভবদহ স্লুইস গেট

 

১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের তৎকালিন প্রেসিডেন্ট আইযুব খানের শাসন আমলে সবুজ বিল্পব বাস্তায়নের জন্য যশোর জেলাধীন মনিরামপুর,কেশবপুর অভয়নগর ও যশোর সদর উপজেলা এবং  খুনলা জেলাধীন ডুমুরিয়া,ফুলতলা ও বটিয়াঘাটা উপজেলা সমুহে ১,২৮,০০০ হাজার হেক্টর জমিতে লবণাক্ততার হাত থেকে রক্ষার প্রয়োজনে ২৭ টি বিলের পানি নিস্কাশনের প্রয়োজনে ১৯৫৮ সালে কাজ শূরু হয়ে নেহালপুর ইউনিয়নের সংলগ্ন টেকা-মূক্তেশরী নদীর উপর ভবদহ নামক স্থানে তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়িত সবচেয়ে বড় প্রকল্প  ভবদহ স্লুইস গেইট ১৯৬২-৬৩ সালে কাজ শেষ হয়। তখন এলাকায় ব্যাপক ফসল হতে থাকে। ১৯৮২ সালে ১ম স্লুইচ গেটে জোয়ারের পানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পলি মাটি নদীর তলদেশে জমতে থাকে । ক্রমান্নয়ে ১৯৮২ সালে নেহালপুর ইউনিয়নসহ এলাকায় ১ম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তখন থেকে ব্যাপক ফসল হানি রাস্তা ঘাট স্কুল কলেজসহ সামাজিক অর্থনৈতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। নেহালপুর ইউনিয়নবাসী ও কুলটিয়া ইউনিয়নবাসী তখন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ছিল।
১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পে আরো অর্থ বরাদ্ধ হয়। ২০০১-০২ অর্থ বছর থেকে ২০০৪-০৫ অর্থ বছরে এসে পানি উন্নায়ন বোর্ড বরাদ্ধ করেন ২৯ কোটি টাকা। এই ভাবে আজ পর্যন্ত চলে আসছে ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের প্রকল্পের কাজ। ৪/৫ বছর পূর্বে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সেনা বাহিনীর তত্ববধায়নে কাজ করার পর থেকে ভবদহ এলাকার ভুক্তভূগী মানুষ সামান্য আশার আলো দেখতে পেলেও কবে হবে এর পুরাপুরি সমাধান, কে করবে সমাধান, কিভাবে হবে সমাধান, নানা  প্রশ্নের জবাব ঘুরপাক খাচ্ছে ভবদহের করাল গ্রাসে জরজরিত মানুষের মাথা।

 

TRM ( টাইটেল রিভার মেনেজমেন্ট) এর যাত্রা শুরু

লাগাতার জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এলাকার মানুষের  দাবির ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৯৯৬ সালে ২২৯ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ( KJDRP ) খুলনা যশোর ড্রেনেজ রিহেবিলিশান প্রকল্প গ্রহণ করে। ১ম প্রকল্প হিসাবে নেহালপুর ইউনিয়নের বিল কেদারিয়ায় TRM ( টাইটেল রিভার মেনেজমেন্ট) এর কাজ শুরু করে। বিল কেদারিয়ায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে নেহালপুর ইউনিয়নসহ আশেপাশের লোকজন উপকৃত হয়।  এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল জলাবদ্ধ এলাকার মানুষকে স্থায়ী জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করা ।

 

 ভবদহ স্লুইস গেইট তদারকির জন্য সেখানে সি প্লেনে করে বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষ আসত । যে গেট দিয়ে ২৭ টি বিলের পানি নেহালপুর ইউনিয়নের বিল কেদারিয়া হয়ে টেকা মূক্তেশ্বরী নদী বেযে সাগরে গিয়ে পড়ত। সেই স্লুইচ গেট আজ মৃত প্রায় । সেখানে ২১ গেট,৯ গেট ৬ গেট,৪ গেট, ৩ গেট ১ টি  করে গেট করে রেখে কালের স্বাক্ষী করে ছিলেন। তখনকার ইঞ্জিনিয়ার বলেছিলেন এই গেট ২০/৩০ বছরেই এর কুফল দেখা দিবে আসলেই আজ আমরা এর কুফল পেতে শুরু করেছি।

 

ভবদহের  উজানের ২৭টি বিলের তথ্য >>>>>    কেদারিয়ার বিল, কপালিয়ার বিল, দামোখালির বিল, আড়পাতার বিল, বলার আবাদের বিল, আন্ধার বিল,কাছোর আবাদ বিল, গান্ধি মারার বিল, ভুলার আবাদ বিল, সন্ধ্যার বিল,বিল বোকড়, কালিধার বিল, হরিণ ঘাটার বিল/হরিণ কাটার বিল, সাত গাতীর বিল, শাহালের বিল বাহাদুর পুরের দক্ষিণে, সুন্দলীর খোল বিল, শুড়ীর ডাঙ্গীর বিল, ঝিহিরের বিল ঝিকরের বিল, রাজাপুরের বিল, ডুমোর বিল, ধলের গাতী বিল, ফেহেলির বিল রাজাপুরের উত্তরে, মাগুরার বিল, শা- মান্দার তলার বিল, ভাতার মারীর বিল জয়পুরের পশ্চিমে, হরিণার বিল খোরচে ডাঙ্গা ও বলা ডাঙ্গার বিল,ভাতুড়িয়ার বিল

 

এর পরেও নাম না জানা আরও ২৬টি বিলের জল যশোরের পুলের হাট হয়ে ভবদহ গেট দিয়ে বাহির হয়।
 

 

 

   
   
   
   
   
   
   
   
   
   

Share with :

Facebook Twitter